সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ


বিয়ের তিন যুগ পর একসঙ্গে দাখিল পাশ করলেন স্বামী-স্ত্রী

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

কিশোরগঞ্জের কাইসার হামিদ ও রোকেয়া আক্তার দম্পতি যথাক্রমে ৫১ ও ৪৪ বছর বয়সে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে উত্তীর্ণ হওয়ার খবর পেয়ে তাদের মাঝে যেন আনন্দের বন্যা বইছে। তাদের ছেলেমেয়েরাও খুশি হয়েছে।

এ দম্পতির পাঁচ সন্তান সবাই পড়াশোনা করছেন। এমনকি দু’জনের বাবা পেশায় শিক্ষক ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও শিক্ষিত। এসএসসি পাশ না করায় তাদের মনে দুঃখ ছিল। অদম্য ইচ্ছা আর মানসিক শক্তির জোরে এবার তারা সেই দুঃখ ঘুচিয়েছেন।

কাইসার হামিদ ও রোকেয়া আক্তার এবার নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দেন। দু’জনই জিপিএ- ৪.১১ পেয়ে পাশ করেছেন। বিয়ের তিন যুগ পর একসঙ্গে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করায় এ দম্পতিকে অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, কাইসার হামিদ দৈনিক নয়াদিগন্ত এবং রোকেয়া আক্তার দৈনিক বুলেটিন পত্রিকার কুলিয়ারচর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

সাংবাদিক কাইসার হামিদ বলেন, ‘আমার সাংবাদিকতার বয়স ৩০ পেরিয়েছে। আমি সক্রিয়ভাবেই এই পেশায় কাজ করছি, সমাজ থেকে অনেক ভালো কিছু পেয়েছি। কেবল কষ্ট ছিল পড়াশোনা নিয়ে। আমাদের স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই একই কষ্ট। বাইরে গেলে পড়াশোনার প্রসঙ্গ এলে চুপ থাকতাম। অনেকে ইচ্ছা করে খোঁচা দিতেন। এসএসসি পাশ না করে সাংবাদিকতা করছেন কীভাবে, অনেকে প্রশ্ন তুলতেন। পরে যেভাবে হোক এসএসসি পাশের পরিকল্পনা করলাম। সেই অনুযায়ী ভর্তি হয়ে দু’জনে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেই।’

কাইসার হামিদের বাড়ি কুলিয়ারচরের গোবরিয়া গ্রামে। রোকেয়া আক্তারের বাড়ি কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের মেয়ে। তারা বিয়ে করেন আজ থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৯৪ সালের ১৬ মার্চ। এ দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান নাসরিন সুলতানা ইতিমধ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। দ্বিতীয় সন্তান জেসমিন সুলতানা স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী এবং তৃতীয় সন্তান মাইমুনা পড়ছেন নার্সিং বিষয়ে। ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন নবম এবং আবদুল্লাহ ফাহিম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর পরীক্ষায় পাশ করতে পেরে আনন্দিত রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘অল্প বয়সে বিয়ে হয়, পরে সন্তান জন্ম হয়। এ কারণে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। এই কষ্ট দুই যুগের অধিক সময় ধরে বয়ে বেড়াতে হয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনই কষ্ট দূর করার উপায় খুঁজতাম। এটা বুঝতে পারি কষ্ট দূর করতে হলে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করার বিকল্প নেই। সে কারণেই সাহস করে পরীক্ষা দিলাম এবং পরীক্ষার ফল পেলাম। এখন আমরা খুব খুশি।’

দ্বিতীয় সন্তান জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘মা-বাবা দুজনই এসএসসি পাশ নয়; বিষয়টি প্রকাশ করা কষ্টকর ছিল। যদিও এমন পরিস্থিতিতে কখনই পড়তে হয়নি। কারণ কেউ জানতই না মা-বাবা এসএসসি পাশ করেননি। তবে এই বয়সে মা-বাবার পড়াশোনার ইচ্ছা এবং পরীক্ষা দিয়ে পাশ করার বিষয়টি আমাদের ভাইবোনদের অনেক আনন্দ দিচ্ছে। আমরা এ থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারি। লজ্জা নয়, শিক্ষার কোনো বয়স নেই।’

আরপিকে/

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

ভবঘুরের ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার সম্রাট, সাভারে সাত মাসে ৬ খুন: পুলিশ

অনেকটা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করলেও খুব ঠান্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জনকে খুন করেছেন...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img