সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ


বিড়ালের দেখাশোনার শর্তে সব সম্পত্তি লিখে দিতে চান বৃদ্ধ

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

৮২ বছর বয়সী এক চীনা বৃদ্ধ নিজের মৃত্যুর পর সব সম্পত্তি তার প্রিয় বিড়ালটির দেখভালের জন্য কাউকে দিয়ে যেতে চান। সম্প্রতি চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার এই ইচ্ছা।

দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের পদবী লং। তিনি জানান, তার সন্তান নেই এবং স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একাই বসবাস করেন। একদিন বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা থেকে চারটি বিড়াল আশ্রয় দেন তিনি। এরমধ্যে ছিল তার প্রিয় বিড়াল ‘শিয়ানবা’ এবং তার তিনটি ছানা। বর্তমানে কেবল শিয়ানবা জীবিত আছে। তাই নিজের জীবনের ইতি ঘটার আগেই বিড়ালটির জন্য নির্ভরযোগ্য অভিভাবক খুঁজছেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গুয়াংডং রেডিও ও টেলিভিশনের বরাতে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, লং তার ফ্ল্যাট ও সঞ্চয়সহ সমস্ত সম্পত্তি সেই ব্যক্তিকে দিয়ে যেতে চান, যে শিয়ানবার যত্ন নেবে নিঃস্বার্থভাবে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এমন কাউকে খুঁজে পাননি।

৮২ বছর বয়সী লংয়ের বিড়ালের জন্য উত্তরাধিকারী খোঁজার বিষয়টি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনলাইনে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে অবাক হয়েছেন। কমেন্টে কেউ লিখেছেন, ‘যদি কেউ প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক না হয়, তাহলে হয় তারা সত্যিকার অর্থে বিড়ালদের ভালোবাসে না অথবা বৃদ্ধের শর্তাবলী খুব কঠোর।’ তবে বিড়াল পালনের চুক্তির শর্তগুলো এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

একজন অনলাইন মন্তব্যকারী বলেন, ‘বৃদ্ধ হয়তো সম্পত্তি দিতে রাজি, কিন্তু যিনি তা গ্রহণ করবেন, তিনি হয়তো তার আত্মীয়দের কাছ থেকে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন—যারা উত্তরাধিকারের দাবি করতে পারেন।’

চীনের ২০২১ সালের নাগরিক আইনে বলা হয়েছে, কেউ চাইলে তার সম্পত্তি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রকে উইল করে দিয়ে যেতে পারেন। তবে অনেকেই বলেছেন, তারা টাকা না নিয়েই বিড়ালটিকে দত্তক নিতে প্রস্তুত।

একজন বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি বৃদ্ধ কেন এমনটা চাইছেন। আমিও একসময় এমন চিন্তা করেছি—আমার মৃত্যুর পর কে আমার পোষা প্রাণীর যত্ন নেবে? তাই যিনি নেবেন, তাকে কিছু অর্থ দিয়ে যাওয়ার চিন্তা করি যেন প্রাণীটি বোঝা না হয়ে যায়।

তবে অনেকেই এটাও আশঙ্কা করছেন যে, কেউ কেউ হয়তো সম্পত্তির লোভে বিড়ালটিকে দত্তক নিয়ে পরে তার ওপর নির্যাতন চালাতে পারে। অনলাইনে এ ধরনের ঘটনার অনেক নজির রয়েছে।

চীনে বর্তমানে পোষা প্রাণীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ রোধে কোনো আইন নেই। তবে দেশটিতে পোষাপ্রাণী বাজার দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে।

২০২৫ চায়না পেট ইন্ডাস্ট্রি হোয়াইট পেপার অনুযায়ী, দেশটিতে ২০২৪ সালে কুকুর ও বিড়ালের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৪০ লাখে—২০২৩ সালের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে বাজারের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ বিলিয়ন ইউয়ানে (৪২০ কোটি মার্কিন ডলার), যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৫ শতাংশ বেশি।

আরপিকে/

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

ভবঘুরের ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার সম্রাট, সাভারে সাত মাসে ৬ খুন: পুলিশ

অনেকটা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করলেও খুব ঠান্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জনকে খুন করেছেন...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img