লালমনিরহাটের আদিতমারীতে রাতে বিয়ে করে পরদিন সকালে স্বামীর বাড়ির নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়েছেন এক নববধূ।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্বামী হোসেন আলী।
হোসেন আলী আদিতমারী উপজেলার তালুক পলাশী গ্রামের খিজির মামুদের ছেলে। অভিযুক্ত নববধূ রুমানা খাতুন একই উপজেলার সাপ্টিবাড়ি এলাকার এনছার আলীর স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে।
জানা যায়, একবছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ হওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নেন কৃষক হোসেন আলী। ঘটক জোবাইদুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম বিয়ে দেওয়ার কথা বলে বুধবার (১৪ মে) হোসেন আলীকে ডেকে নিয়ে লালমনিরহাট শহরে নিয়ে যান। সেখানে পাত্রী হিসেবে স্বামী পরিত্যক্তা রুমানা খাতুনকে দেখালে তার পছন্দ হয় এবং তাৎক্ষণিক তাদের কাজী আমজাদ হোসেনের নিকাহ রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে দেন।
বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে রাতে বাড়িতে ফিরতে চাইলে তাদের সঙ্গে আসেন ঘটক জোবাইদুলের মেয়ে। পরদিন সকালে স্বামী হোসেন আলীর ঘরে থাকা তামাক বিক্রির এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও দেড় ভড়ি স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘটকের মেয়েসহ নববধূ তার বাবা অসুস্থতার অজুহাতে চলে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও না আসায় এবং মোবাইল বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় বর হোসেন আলীর। পরে দেখেন ঘরে গচ্ছিত থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার নেই। ঘটনার পর থেকে ঘটকদের কাছে গেলেও তারা কোনো পাত্তা দেননি।
বিয়ের নকল চাইলে গেলে নিকাহ রেজিস্টার কাজী আমজাদ হোসেন সরকার তাদেরকে নকল সরবরাহ না করে উল্টো হুমকি দেন। অবশেষে বর হোসেন আলী বুঝতে পারেন টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করতেই এ চোর সিন্ডিকেট বিয়ের নাটক তৈরি করেন। নববধূ ও তার সঙ্গে আসা ঘটকের মেয়ে এসব চুরি করে পুরো চক্রটি তা ভাগ-বাটোয়ারা করেছেন। শুক্রবার বিকেলে চোরাই টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করতে নিকাহ রেজিস্টার ও নববধূ রুমানাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বর হোসেন আলী।
হোসেন আলী বলেন, ঘটকরা জানত বাড়িতে তামাক বিক্রির টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল। এসব চুরি করতে তারা বিয়ের নাটক তৈরি করে আমার বাড়িতে স্ত্রী হিসেবে পাঠায় রুমানা ও ঘটকের মেয়েকে। বিয়ে দেওয়ার বখশিশ হিসেবে ঘটক জোবাইদুল টাকাও নিয়েছেন ১০ হাজার। তারা মূলত চুরি করতে বিয়ের নাটক তৈরি করেছে। তিনি ন্যায় বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত ঘটকে জোবাইদুলকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। নববধূ রুমানা খাতুনের ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রুমানাসহ এ চক্রটির কাজই হলো বিয়ের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও জিম্মি করে অর্থ আদায় করা। ফলে স্থায়ীভাবে কোথাও বসবাস করেন না রুমানা।
লালমনিরহাট পৌরসভার নিকাহ রেজিস্টার কাজী আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, রুমানা হোসেন আলী নামে কারো বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়নি। তারা অহেতুক আমার নাম বলতে পারে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আকবর বলেন, এটি চুরি চক্রের নতুন কোনো কৌশল হতে পারে। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।




