পাবনার সুজানগরে অণ্ডকোষে লাথি মেরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আমেনা খাতুন আন্না নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোববার (২২ জুন) স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্নাকে গ্রেপ্তার করে পাবনা আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে, শনিবার রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের চাচাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম।
নিহত সবুজ হোসেনের বাড়ি উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের বোনকোলা গ্রামে। গ্রেপ্তারকৃত আমেনা খাতুন আন্না সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামের আমিন সরদারের মেয়ে।
সোমবার (২৩ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সবুজ হোসেনের সঙ্গে আমেনা খাতুন আন্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মাঝেমধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। দাম্পত্য জীবনে তাদের মোছা. আছিয়া খাতুন নামে ১৫ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত ১৫ দিন আগে স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্না তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। পরে গত ১৮ জুন রাতে স্ত্রী ও কন্যাকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি জোড়পুকুরিয়ায় যান সবুজ। সেদিন রাতে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী আমেনা খাতুন স্বামী সবুজের অণ্ডকোষে লাথি মারেন। এ সময় স্বামী সবুজ বিছানাতে লুটিয়ে পড়েন এবং প্রাণ হারান। পরে ১৯ জুন মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
সুজানগর থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী সবুজ হোসেনের অণ্ডকোষে লাথি মেরে হত্যা করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন স্ত্রী আমেনা খাতুন আন্না। স্বামী নেশাগ্রস্ত হয়ে তার কাছে যান এবং তাকে নির্যাতন করায় তিনি এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। পরে অভিযুক্ত আমেনা খাতুন আন্নাকে গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতে পাঠানো হয়। আর মাতৃদুগ্ধ পান শিশুর অধিকার তাই আমেনা খাতুনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ১৫ মাসের দুগ্ধ শিশুকেও তার সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়।
আরপিকে/




