রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য এবং সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন যে বিএনপি নিজেদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা মূলত আগের ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে সরে আসারই সুষ্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু জনগণের সঙ্গে করা রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পরিপন্থী নয়, বরং বিএনপির নিজেদের ঘোষিত সংস্কার এজেন্ডার সঙ্গেও পুরোপুরি অসংগতিপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার তুষার আরও উল্লেখ করেন যে বিএনপি নির্বাচনের আগে দেশবাসীর সামনে সংস্কার বাস্তবায়নের জোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তাদের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া দলটি জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলটির বাস্তব অবস্থান এবং গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এক ধরনের বড় ধরনের অসংগতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে কোনো অস্পষ্টতা তৈরি করার সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা জানান যে গণভোটে উত্থাপিত চারটি প্রশ্নের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারিত রয়েছে। ফলে গণভোটের রায় কার্যকর করার মূল প্রশ্নটিকে পাশ কাটিয়ে শুধু জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলে তা মূলত প্রধান ইস্যু থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা বলে গণ্য হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে বিএনপি বর্তমান রাজনৈতিক ইতিহাসকে কেবল ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকেই শুরু করতে চাইছে। অথচ এই নির্বাচনের আগেই দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছিল, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে একাধিক কমিশন কাজ সম্পন্ন করেছিল।
সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সারোয়ার তুষার বলেন যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির কোনো নোট অব ডিসেন্ট বা দ্বিমত ছিল না, অথচ ক্ষমতায় আসার পর তা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে পুলিশ সংস্কারসহ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেসব ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে অনীহা দেখা যাচ্ছে। সংস্কার কোনো একক দলের দলীয় এজেন্ডা ছিল না উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন যে সরকার যদি দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন অদূর ভবিষ্যতে নতুন এক গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে।
উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে মূলত তিনটি প্রধান দাবি পেশ করা হয়। দলটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা এবং ঘোষিত একদলীয় কমিটিতে এনসিপি অংশ নেবে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে সংগঠনের সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।




