স্বাস্থ্য ডেস্ক: অস্টিওপোরোসিসের মতো নীরব ঘাতক রোগটির ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি বড় অংশের মানুষ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হাড় ক্ষয় ও পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদী এই শারীরিক দুর্ভোগ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্বাস্থ্যখাতে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেছেন যে, অসচেতনতার কারণে অনেকেই হাড়ের এই মারাত্মক রোগ সম্পর্কে সময়মতো জানতে পারছেন না। ফলে জটিলতা বাড়ার পর তাদের দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সাধারণ জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যঝুঁকির এই বার্তা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণার বিকল্প নেই। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এ বিষয়ে বেশি অবহেলিত থাকায় তাদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই স্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় দেশের প্রতিটি জেলায় স্ক্রিনিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক মানুষকে পঙ্গুত্বের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এর তীব্রতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। তাই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রচারণা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সময়মতো সচেতনতা সৃষ্টি ও স্ক্রিনিং ক্যাম্প পরিচালনা করা গেলে অস্টিওপোরোসিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি স্তরে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল এই নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা করে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন করা সম্ভবপর হবে।




