জাতীয় ডেস্ক: রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান যখন শত ব্যস্ততা ও আনুষ্ঠানিকতার মাঝেও নাম ধরে খোঁজ নেন, তখন সেই অভিজ্ঞতা কেবল সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং তাতে মিশে থাকে কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দ, পেশাগত আত্মমর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের নতুন প্রেরণা। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের কাছে সম্প্রতি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার এমন একটি মুহূর্ত পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হয়ে ধরা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তার এই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। সংক্ষিপ্ত সেই কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তার খোঁজখবর নেন, যা এই পুলিশ কর্মকর্তার মনে গভীর রেখাপাত করে।
ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সামরিক বিমানে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমান থেকে নেমে তিনি সেখানে উপস্থিত মন্ত্রী, মেয়র এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে হাত মেলানোর একপর্যায়ে তিনি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সামনে এসে থামেন এবং সহজাত ভঙ্গিতে তার খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক অভিব্যক্তি ও মনে রাখার বিষয়টি এই পুলিশ কর্মকর্তাকে আবেগাপ্লুত ও আনন্দিত করে তোলে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মাসুদ আলম জানান যে সরকারপ্রধান তাকে চেনেন এটি তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। পেশাগত জীবনে কাজের স্বীকৃতি কেবল পদক কিংবা আনুষ্ঠানিক পুরস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন আন্তরিক স্মরণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এর আগে সম্প্রতি হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি অনুষ্ঠানেও একইভাবে তাকে ডেকে খোঁজ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ধরনের স্বীকৃতি তার কাজের স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া এই অনুপ্রেরণাকে পুঁজি করে ভবিষ্যতে আরও বেশি নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবায় কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। যদিও বিমানবন্দরের সেই মুহূর্তটি দীর্ঘ ছিল না এবং সেখানে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, তবুও ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গায় এটি এক বিরল সম্মানের বিষয়। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন স্বীকৃতি একজন পেশাদার কর্মীকে তার লক্ষ্য অর্জনে আরও বেশি উদ্দীপ্ত করে তোলে। পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের এই অভিজ্ঞতা প্রশাসনের অন্যান্য সৎ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।




