সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সঙ্গে ‘আঁতাত’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জামায়াত আমিরের চ্যালেঞ্জ

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কথিত গোপন সমঝোতা এবং দলটিকে ক্ষমা করে দেওয়ার গুঞ্জনকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই দাবি করেন এবং বিষয়টি নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে তিনি কিংবা তার দল কখনোই কোনো জনসভায় বা ফোরামে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কথা উচ্চারণ করেননি। যারা এসব অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সম্প্রতি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দায়িত্বশীল পদে আসীন কোনো ব্যক্তির জন্য এভাবে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ঢালাও মন্তব্য করা মোটেও সমীচীন নয়। তিনি আরও যোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই কোনো আঁতাত বা গোপন সমঝোতার সুনির্দিষ্ট তথ্য জেনে থাকেন, তবে তা জনসমক্ষে খোলাসা করা উচিত। কোথায়, কখন এবং কীভাবে এই আঁতাত হয়েছে—তার দালিলিক প্রমাণ দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র, অর্থ এবং মাদক প্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন যে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকেই এগুলো আটকানোর কথা। সীমান্ত রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি সরকারের ওপর বর্তায় বলে মনে করেন তিনি। দেশের ভেতরে অবৈধ চোরাচালান বন্ধ করতে না পারার চরম ব্যর্থতার কারণে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে পদত্যাগ করা উচিত বলেও তিনি জোরালো দাবি জানান।

গত ১২ আগস্টের একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর নিজের বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ করেন এবং বলেন যে একটি নির্দিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল তার ২২ মিনিটের সম্পূর্ণ বক্তব্য থেকে অংশবিশেষ কেটে ভিন্ন অর্থ তৈরি করে ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে। তিনি পরিষ্কার করে জানান যে ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি কেবল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে থেকে আইনি পথে চলার কথা বলেছিলেন, অথচ সেখানে একবারের জন্যও আওয়ামী লীগ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। যদি কেউ তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারে, তবে তিনি নিজে জাতির সামনে ক্ষমা চেয়ে নেবেন বলে পুনরায় চ্যালেঞ্জ করেন।

উল্টো দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে আঙুল তুলে জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন যে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চিহ্নিত নেতাকর্মীদের ডিও লেটার বা বিশেষ সুপারিশের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অথচ নিজেদের অন্যায় ধামাচাপা দিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমস্ত দোষ জামায়াতের ঘাড়ে চাপানোর নোংরা রাজনীতি চলছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে প্রবাদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন যে চোর না শুনে ধর্মের কথা বলার মতো অবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রকৃত আশ্রয়দাতারা নিজেদের আড়াল করতে ব্যস্ত।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

সব ওষুধ কিনতে হয় রোগীর, দুঃখ প্রকাশ করে টাকা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img