জাতীয় ডেস্ক: বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধে সাব-এজেন্টদের কঠোর নীতিমালার আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক অভিবাসন সংলাপে বক্তারা এই মতামত তুলে ধরেন। উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত এবং যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচকরা বলেন, নিবন্ধনহীন সাব-এজেন্টদের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ কর্মীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকারে পরিণত হচ্ছেন। অথচ বর্তমান ব্যবস্থায় বিদেশগামী কর্মীদের জন্য এসব মধ্যস্বত্বভোগী বা সাব-এজেন্টের পরিচয় যাচাই করার কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি মাধ্যম বা তথ্যব্যবস্থা নেই।
সংলাপে অংশ নিয়ে বক্তারা উল্লেখ করেন যে সাব-এজেন্টদের নিবন্ধন ও তদারকি প্রক্রিয়া অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের সঠিক পরিচয় পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে কর্মীরা কোনো সংস্থাকে অর্থ দেওয়ার আগে তাদের বৈধতা যাচাই করতে ব্যর্থ হন। এই পরিস্থিতিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধিদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থা চালু হলে কর্মীরা অর্থ লেনদেনের আগেই সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির বৈধতা যাচাই করতে পারবেন, যা প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি, অভিবাসী কর্মীদের সচেতনতার অভাবে অনেকেই অর্থ লেনদেনের কোনো রশিদ বা প্রমাণ সংরক্ষণ করেন না, যার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া জটিল হয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন যে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান মূল্যায়নের জন্য একটি কার্যকর গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু করা অত্যন্ত জরুরি। গ্রেডিং পদ্ধতি না থাকলে সার্বিক প্রক্রিয়ায় প্রতারণার আশঙ্কা দিন দিন বাড়তেই থাকবে। তিনি আরও জানান যে সাব-এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সফটওয়্যার ব্যবস্থাটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই এজেন্সিগুলোকে তাদের সকল প্রতিনিধির তালিকা জমা দিতে বাধ্য করা হবে এবং সেই তালিকা মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া তিনি একক শ্রমবাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরেন, কারণ চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিদেশে কর্মী প্রেরণের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ছিল সৌদি আরবকেন্দ্রিক।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও অভিবাসন খাতের বিশিষ্টজনেরা অংশ নিয়ে অভিবাসন খাতের নানা দিক তুলে ধরেন। উইটনেস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসী কর্মীদের তাদের প্রাথমিক নিয়োগ ব্যয় তুলে নিতে গড়ে প্রায় পনেরো মাস সময় লেগে যায় এবং অতীতে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর একটি বড় অংশ সফলভাবে নিষ্পত্তি করে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু কর্মী বিদেশে পৌঁছানোর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরে আসায় বা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কেন বিদেশে নিজস্ব প্রতিনিধি নিয়োগ না করে ভিসা-মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করে, সে প্রশ্ন তোলেন এবং গোটা অভিবাসন খাতকে একটি আধুনিক ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার ওপর জোর দেন।




