সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার এবং কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধ করতে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিককে এবার কিউআর কোড সংবলিত নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে পুলিশ প্রশাসন। সম্প্রতি রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশ সদর দপ্তরের আয়োজিত এক কনফারেন্সে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ, পুলিশের বিশেষ শাখাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর বিষয়টি নিয়ে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। তবে বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র নানা কৌশলে বাংলাদেশে এসে সাইবার প্রতারণা, অনলাইন জুয়া ও স্ক্যামিংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এর আগে কক্সবাজারের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ একাধিক বিদেশি নাগরিককে আটক করে। পর্যটক বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে কাজ করার পাশাপাশি এই চক্রের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করছে। সমন্বিত কোনো তথ্যভাণ্ডার না থাকায় এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছিল না, যার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।

বর্তমানে বাংলাদেশে কত সংখ্যক বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন, তার সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের আয়কর দেওয়া ও কাজের বৈধ অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও জরিমানা কম থাকায় অনেকে তা উপেক্ষা করছেন। বিশেষ করে এ-থ্রি ভিসাধারী বা মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় থাকা ব্যক্তিরা সহজে দেশত্যাগ করতে পারায় কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। পুলিশের বিশেষ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধনের কাজটি সফল হলে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং অপরাধী শনাক্তকরণ অনেক সহজ হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড, বেপজা ও বেজা সহ একাধিক কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করে আসছে। সম্প্রতি এই প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর করতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ নামের একটি নতুন দপ্তর গঠন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকে পুরোনো পাসপোর্ট পরিবর্তন করে পুনরায় দেশে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এই নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জানান যে, বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণের কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ক্ষতি রোধ এবং অপরাধ দমন কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img