বিনোদন ডেস্ক: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত হয়েছিল জমকালো কনসার্ট ফর সলিডারিটি। সাম্প্রতিক সময়ের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এই সংগীতানুষ্ঠান ঘিরে এলাকায় মানুষের অভূতপূর্ব জনসমাগম ঘটে, যার বিস্তার খামারবাড়ি মোড় ছাড়িয়ে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। রাজধানীজুড়ে তারুণ্যের এই ঢল প্রমাণ করেছে তরুণ প্রজন্মের কাছে এই ধরনের উন্মুক্ত কনসার্টের জনপ্রিয়তা কতটা বেশি।
দুপুর গড়াতেই রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে তরুণ-তরুণী ও সংগীতপ্রেমীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই শুরু হওয়া এই আয়োজনের প্রথম পর্বে মঞ্চ মাতায় জনপ্রিয় হেভি মেটাল ব্যান্ড মেকানিক্স এবং শিরোনামহীন। মেকানিক্স তাদের জনপ্রিয় কিছু গান ছাড়াও প্রয়াত ও সাবেক ব্যান্ড সদস্যদের স্মরণে বিশেষ পরিবেশনা উপহার দেয়, যা দর্শকদের নস্টালজিক করে তোলে। এরপর শিরোনামহীনের পরিবেশনায় হাজারো দর্শক একসঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেন।
ধারাবাহিক এই আয়োজনে একে একে মঞ্চে আসে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড আর্টসেল, ফিডব্যাক, ওয়ারফেজ ও মাইলস। ওয়ারফেজের পরিবেশনা এবং মাইলসের জনপ্রিয় সব গান শ্রোতাদের মনে অন্যরকম উত্তেজনার সৃষ্টি করে। প্রতিটি ব্যান্ডের পরিবেশনার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনতার উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কনসার্টে দেশের ব্যান্ড সংগীতের বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ ধারাটি চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে।
রাত দশটার দিকে এই মেগা কনসার্টের মূল আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে আসেন নগরবাউল ব্যান্ডের প্রধান ভোকালিস্ট জেমস। শুভরাত্রি ঢাকা বলে নিজের পরিবেশনা শুরু করে তিনি একে একে তার জনপ্রিয় গানগুলো গেয়ে শোনান এবং শ্রোতাদের নিরন্তর ভালোবাসায় সিক্ত হন। কনসার্টের ফাঁকে সংস্কৃতি সচিব ইয়াসমিন বেগম ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বক্তব্য দেন। তাঁরা জানান, জনগণের মাঝে আনন্দের খোরাক জোগানোর পাশাপাশি বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সঠিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই বড় আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।




