সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


উন্নয়নশীল দেশগুলোর রূপান্তর ঘটাতে পারে ‘ছোট এআই’: বিশ্বব্যাংক

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুততর করতে এবং পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর ভাগ্য বদলাতে স্থানীয় ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ছোট এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়বহুল ও জটিল প্রযুক্তির চেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই ছোট মাপের এআই মডেলগুলো বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই ধরনের প্রযুক্তি শতাব্দীব্যাপী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথকে মাত্র কয়েক দশকে অতিক্রম করতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থ খাতের নীতিনির্ধারকেরা।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সভায় এআইয়ের বহুমুখী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রধান জ্ঞান কর্মকর্তা পাসকাল ডনোহো উল্লেখ করেছেন যে, উন্নত বিশ্বের ভোক্তাপণ্য তৈরির পাশাপাশি উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট চাহিদা মেটাতে এআই প্রযুক্তির রূপান্তর ঘটানো জরুরি। বিশেষ করে সীমিত তথ্যভান্ডারে প্রশিক্ষিত এবং দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগেও সাধারণ মোবাইল ফোনে চালানো সম্ভব এমন বিশেষায়িত মডেলগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে ভারতের কৃষকদের একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাংকের ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের মাটির গুণাগুণ সংক্রান্ত তথ্য স্থানীয় ভাষায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি ছোট খামারের জন্য আলাদাভাবে কৃষিবিশেষজ্ঞের পরামর্শ পাওয়া কঠিন হওয়ায় এআই-চালিত মডেলগুলো সহজেই কৃষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং বিশ্বব্যাংকের সম্মিলিত উদ্যোগে এ ধরনের জনহিতকর প্রযুক্তি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক ও ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তার মতে, এআইয়ের সুফল পুরোপুরি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো এবং যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সাব-সাহারান আফ্রিকার বহু গ্রামীণ বিদ্যালয়ে এখনো বিদ্যুৎ বা নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নেই, যা ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে বড় একটি অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের এসব আলোচনায় আরও উঠে এসেছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি নতুন রূপ নিতে পারে কিংবা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাওয়া তরুণেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং প্রযুক্তির সুষম বিস্তার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংক গত এক বছরে বিভিন্ন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহে সহায়তা করেছে। মূলত ডিজিটাল ব্যবধান কমিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

আদালতের নির্দেশের পরও বিরোধপূর্ণ বাড়িতে বসবাস

আইন-আদালত ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় জমি ও বসতবাড়ির মালিকানা নিয়ে দুই লন্ডন প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যকার বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img