সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


এলপিজি: বিইআরসির দাম এখনো কাগজে, বাড়তি দামেই কিনছেন ক্রেতা

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

অর্থনীতি ডেস্ক: রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত সিলিন্ডারজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চরম নৈরাজ্য চলছে। দাম নির্ধারণকারী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিভিন্ন সময়ে সিলিন্ডারের মূল্য বাড়ালেও বাজারে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। বিক্রেতারা সরকারি নির্দেশিকা পুরোপুরি উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত দামে এই জ্বালানি বিক্রি করছেন। ফলে দেশের প্রায় এক কোটি রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বাধ্য হয়ে চড়া দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আমদানির পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকা সত্ত্বেও বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এই অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলতি সময়ে বাজারে ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি সর্বোচ্চ মূল্য দুই হাজার ৬০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অথচ রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ক্রেতাদের আজও দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। এর আগে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়েও একই ধরনের অস্বাভাবিক দামে জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার অজুহাত দেখিয়ে বিইআরসি টানা দুই দফায় গ্যাসের দাম বাড়ালেও বাজারে শৃঙ্খলা ফেরেনি। ডিলার, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে তদারকির ঘাটতি থাকায় সরকারি এই বেঁধে দেওয়া মূল্য কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বাজার ঘুরে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে এখনো ডিলারদের কাছ থেকে ঠিকমতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক সময় সরকারি দামে গ্যাস না পেয়ে তাঁদের চড়া দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়, যার প্রভাব পড়ে শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর। বনশ্রীর এক রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক জানান যে তাঁরা আগের মতোই আড়াই হাজার টাকার কাছাকাছি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে আমদানির পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা, যেখানে দেখা যায় দেশে প্রতি মাসে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বা তার চেয়েও বেশি এলপি গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে।

এদিকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে যে অন্তত তিনটি কোম্পানি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করছে বলে প্রমাণ মিলেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবেশক ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, আমদানিকারক ও বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কারসাজির কারণে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হলেও কার্যকর তদারকি ও নজরদারির অভাবে সাধারণ ভোক্তাদের এই অতিরিক্ত আর্থিক চাপের শিকার হতে হচ্ছে।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

ঠাকুরগাঁও-বগুড়া: ফুলকপিতে উঠছে না শ্রমিকের খরচ, মুলা ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা

অর্থনীতি ডেস্ক: বাজারে শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ লক্ষ্য করা গেলেও সেই তুলনায় ক্রেতাদের চাহিদা বাড়েনি। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img