স্বাস্থ্য ডেস্ক: সুন্দর, ঘন ও মজবুত চুলের আকাঙ্ক্ষা কমবেশি সবারই থাকে। তবে দৈনন্দিন জীবনের নানা ভুল অভ্যাস, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অপর্যাপ্ত পরিচর্যার কারণে অনেকেই চুল পড়া এবং ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের মতে, একজন মানুষের মাথার ত্বকে জন্মগতভাবেই নির্দিষ্টসংখ্যক চুলের ফলিকল থাকে, যেখান থেকে চুল গজায়। ফলিকলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে চুল প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পায়, যা চুলের বৃদ্ধি ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় একশ চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক হলেও এর চেয়ে বেশি চুল পড়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মতো নানা কারণ থাকতে পারে।
চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. লিন্ডসে বোর্ডোন জানান, কঠোর ডায়েট নিয়ন্ত্রণে রাখা চুলের জন্য ক্ষতিকর, কারণ শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শক্তির সঞ্চয় বজায় রাখতে চুলের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে গঠিত হওয়ায় দৈনিক অন্তত পঞ্চাশ গ্রাম বা তার বেশি প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ক্যাফেইনযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, মাথার ত্বকে প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল ম্যাসাজ করা এবং শরীরে আয়রন, জিংক ও বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতি দূর করা চুল পড়া রোধে দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
চুল লম্বা ও মজবুত রাখতে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি এবং সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করা উচিত। কার্লিং আয়রন বা হেয়ার ড্রায়ারের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়, তাই স্টাইলিং টুলস ব্যবহারের সময় তাপমাত্রা কম রাখা এবং হিট প্রটেক্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করা জরুরি। চুলে স্থায়ী হেয়ার ডাই বা কেমিক্যালযুক্ত রং ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড নষ্ট হয়ে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে, যা এড়িয়ে চলা শ্রেয়। এ ছাড়া কয়েক মাস পরপর চুলের আগা ছেঁটে ফেললে স্প্লিট এন্ডস সমস্যা দূর হয় এবং চুল দেখতে ঘন ও সুস্থ লাগে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে চুল সুপ্ত পর্যায়ে চলে যায়, যার ফলে নতুন চুল গজানোর বদলে দ্রুত ঝরতে শুরু করে। তাই মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম ও মেডিটেশন করার পাশাপাশি প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। সুতি কাপড়ের বদলে রেশম বা স্যাটিনের বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুলের ঘর্ষণ কমে। চুল পড়া মাত্রাতিরিক্ত হলে বা দীর্ঘদিন চুলের বৃদ্ধি না হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।




