জাতীয় ডেস্ক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে খুব দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সম্প্রতি সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গেলে আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই মেগা প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়ায় বহু সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা ও কঠোর নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকায় তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ জানাতে চাননি। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, একটি জটিল ভিভিআর ভালভ নিয়ে প্রায় দুই মাস কাজ করার পর অবশেষে সেই কারিগরি সমস্যার সফল সমাধান করা হয়েছে। রুশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমেই এই বড় ধরনের জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মূলত আসন্ন ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’ এর প্রস্তুতি ও বিস্তারিত দিক তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলনটি রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই সামিট সাজানো হয়েছে। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’, যা দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও বেশি গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পুরো আয়োজনের মূল দর্শন দাঁড়িয়ে রয়েছে মানুষ, ব্যবসা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত সমন্বয়ের ওপর।
এই দিনব্যাপী প্রযুক্তি সম্মেলনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবের গতিপথ, নীতিমালা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে একাডেমিয়া ও শিল্প খাতের অংশীদারত্ব জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশলসমূহ বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। পরবর্তীতে তৃতীয় অধিবেশনে ডিজিটাল সহকর্মী হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্টদের ভূমিকা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের নানা আধুনিক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও করপোরেট ব্যক্তিত্বসহ প্রায় সাতাশজন বিশিষ্ট বক্তা ও আলোচক তাদের মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সামিটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানি, প্রযুক্তি প্রদানকারী এবং উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে মোট একশো বিয়াল্লিশটি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এর পাশাপাশি দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রজেক্ট প্রদর্শন করবে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে প্রায় কুড়িটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রজেক্ট ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে কয়েকটি বিদেশি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠানও এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। সামিটে হাজার হাজার দর্শনার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন নীতিগত দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, মন্ত্রণালয় মূলত প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা বাড়ানো, গবেষণালব্ধ জ্ঞান সরাসরি বাজারের উপযোগী করা এবং গবেষকদের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সেতুবন্ধন তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি ও মহাকাশ গবেষণা নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




