জাতীয় ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতার নেপথ্যে কিছু শিল্পমালিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কিছু শিল্পমালিক এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীরাও এই অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার এমন অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কিছু কারখানা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং জড়িত মালিকদের তালিকা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বিক্ষোভে ইন্ধন জোগানো কিছু শ্রমিকনেতা ও সংগঠনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ এবং মালিক সংগঠনের মনোনীত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এই নজরদারি পরিচালিত হবে এবং পুলিশের সদর দপ্তরে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে সরকার কোনোভাবেই কারখানা বন্ধ থাকুক তা চায় না এবং সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ন্যূনতম মাসিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার ইতোমধ্যে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। খুব দ্রুত যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও ঘোষণা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সরকারের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রমিকনেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শ্রমিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়।




