জাতীয় ডেস্ক: শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দলীয় অবস্থান, শ্রেণি-পেশা কিংবা সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে কোনো ধরনের ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাসের প্রথম বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেখানে শিশুদের সুরক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে এবং শিশুদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ককাসের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন যে, কেবল আইন থাকলেই চলবে না, সেগুলোর সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ ও অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন কায়সার কামাল। শিশু অধিকার সংক্রান্ত খসড়া আইনগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী আনার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। নির্বাহী বিভাগে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সংসদ সদস্যরা যাতে বেসরকারি বিলের মাধ্যমে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে সংসদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
বৈঠকে মূলত শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু এবং এতিম ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মতো মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।




