অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের পর্যটন খাতের ব্যবসাকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে একটি নতুন সুযোগ উন্মুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি পর্যটকদের আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বিক্রির পর প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের কাছে ধরে রাখতে পারবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও শপিং মলের মতো সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিশেষ সুবিধা উপভোগ করতে পারবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে। ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের মোট অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা রিটেনশন কোটায় জমা রাখার অনুমতি দিতে পারবে। আর বাকি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করতে হবে।
সংরক্ষিত এই বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই অর্থ দিয়ে তাদের বৈধ আন্তর্জাতিক দায়দেনাগুলো সহজেই পরিশোধ করতে পারবেন। এ ছাড়া প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও এই অর্থ পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু মুদ্রা ধরে রাখার সুযোগ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং পর্যটকদের লেনদেন সহজ করতে বাড়তি নির্দেশনাও দিয়েছে। বিদেশি পর্যটকরা যাতে আন্তর্জাতিক কার্ড এবং অন্যান্য অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব সহজেই অর্থ পরিশোধ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক পেমেন্টের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটন খাতের ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজতর হবে।




