সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


মানিকগঞ্জের হাসিবুরের রোবট বানিয়ে বিশ্ব জয়

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

প্রযুক্তি ডেস্ক: ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রবল আগ্রহ ছিল মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রৌহাদহ গ্রামের তরুণ হাসিবুর রহমান খানের। খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী প্রযুক্তির প্রতি অদম্য কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ ধরনের কৃষি রোবট উদ্ভাবন করেছেন। তার এই অসাধারণ সাফল্য কেবল পরিবার বা গ্রামবাসীর জন্যই নয়, বরং পুরো দেশের জন্যই এক বিশাল গৌরব বয়ে এনেছে। মালয়েশিয়ার সাইবারজায়ায় অবস্থিত মাল্টিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট গোলস প্রতিযোগিতায় তিনি এই গৌরব অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান তরুণ উদ্ভাবকরা তাদের প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছিলেন।

প্রতিযোগিতার পরিবেশ বিজ্ঞান ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগে অংশ নিয়ে হাসিবুর তার উদ্ভাবিত রোবটের মাধ্যমে প্রথম স্থান অধিকার করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ ছাড়া সব বিভাগ মিলিয়ে সার্বিক মূল্যায়নে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পাশাপাশি একটি বিশেষ পরিবেশবিষয়ক সম্মাননা এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন। মাত্র এক মাস সময় ও প্রায় পঁয়ষট্টি হাজার টাকা ব্যয়ে তিনি এই আধুনিক রোবটটি তৈরি করেছেন। তার এই সাফল্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়েছে এবং তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিষয়টি নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে এসেছে।

হাসিবুরের উদ্ভাবিত আধুনিক এই কৃষি রোবটটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমিতে চলাচল করে মাটির স্বাস্থ্য ও আর্দ্রতা পরীক্ষা করতে সক্ষম। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি একটি বিশেষ ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে, যা ফসলের পাতার ছবি বিশ্লেষণ করে উদ্ভিদের রোগ এবং ক্ষতিকর আগাছা সহজেই শনাক্ত করতে পারে। রোবটটি মাটির পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি নির্ণয় করে কৃষকদের সঠিক পরিমাণ সার ব্যবহারের পরামর্শ দেয় এবং প্রয়োজনে জমিতে সুনির্দিষ্টভাবে সার প্রয়োগও করতে পারে। এর ফলে কৃষকরা যেমন অতি সহজেই ফসলের নানা সমস্যা চিহ্নিত করতে পারবেন, তেমনি অতিরিক্ত সার ও সেচের পানির অপচয় রোধ করতে পারবেন।

তৈরিকৃত এই রোবটটি অত্যন্ত সহজে ওয়াই-ফাই কিংবা ব্লুটুথের মাধ্যমে মুঠোফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, যার ফলে কৃষকরা দূর থেকেই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পর এখন এই তরুণ উদ্ভাবকের প্রধান লক্ষ্য হলো তার প্রযুক্তিটি দেশের সাধারণ কৃষকদের মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। মাটির গুণাগুণ রক্ষা এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে এই উদ্ভাবনটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। নিজের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এখন সরকারি সহযোগিতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এই প্রতিভাবান তরুণ ও তার পরিবার।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

সারা দেশে জমে উঠেছে শারদীয় দুর্গোৎসব

জাতীয় ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব দেশজুড়ে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। রাজধানী...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img