সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


শনিবার খুলনা বিভাগে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, অংশ নেবে ১৯ জেলার নেতাকর্মী

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

রাজনীতি ডেস্ক: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো সাত দফা দাবিতে বড় ধরনের লংমার্চ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দেশের সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্রায় চারশো কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথপরিক্রমা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের বর্তমান বিভিন্ন নীতি এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদ জানাতে এই লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আগের বিভিন্ন কর্মসূচির তুলনায় এই লংমার্চের পরিসর অনেক বড় এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন যে, জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই মাসের গণআন্দোলনে হাজারো মানুষ হতাহত হলেও এখনো অনেক দোষী ব্যক্তি আইনের আওতার বাইরে রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়া দেশে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলা মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানের দাবি জানান এই রাজনৈতিক নেতা। রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জনগণের মতামতকে সম্মান জানানোর ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ পেরিয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই লংমার্চে প্রায় ১৯ জেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকেরা অংশ নেবেন। বিশাল এই বহরে দেড় হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মসূচিটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার কারণে মহাসড়কে চলাফেরা করা সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য জোটের পক্ষ থেকে আগে থেকেই দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। যাত্রাপথে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ কমাতে গাড়ির বহর সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করবে এবং মহাসড়কের নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে এই লংমার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এরপর রাজধানী থেকে শুরু হওয়া গাড়ির বহরটি বিভিন্ন জেলা ও জনপদ অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে সমাপনী জনসভার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। যাত্রাপথে শরীয়তপুর, বাগেরহাট, খুলনা, ফুলতলা, যশোর ও ঝিনাইদহসহ মোট ছয়টি স্থানে পথসভার আয়োজন করা হয়েছে যেখানে জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন। লংমার্চে অংশ নেওয়া সব নেতাকর্মীকে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যাত্রাপথে কোনো ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান বা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে এমন কোনো আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় বেকো

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত করতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তুরস্কের...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img