সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন: বেসরকারি ঋণপ্রবাহ তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রায় থমকে গেছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, নতুন বিনিয়োগ তো দূরের কথা, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা তাদের পুরোনো ব্যবসা সম্প্রসারণের উৎসাহও হারিয়ে ফেলছেন। ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ গ্রহণের চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিক ঋণপ্রবৃদ্ধিতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে গত তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ এখন সর্বনিম্ন অবস্থানে এসে ঠেকেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচেই আটকে রয়েছে। চলতি বছরের বিভিন্ন মাসে এই প্রবৃদ্ধি চার শতাংশের ঘরেই ঘোরাফেরা করেছে এবং সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে তা আরও কমে চার দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বিনিয়োগ খরা কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার কমালেও বাজারের ওপর তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়নি। উচ্চ সুদহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ভ্যাট-কর সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে নতুন বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে সাহস পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্যিক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অনুকূল পরিবেশের অভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ওপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আগামী এক বছরে নতুন কোনো ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেই বলে অনেক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন। ব্যাংকগুলোও উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং সামগ্রিক অনিশ্চয়তার মুখে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের শ্লথগতি বিরাজ করছে, যা শিল্প খাতের উৎপাদন ক্ষমতাকে সংকুচিত করেছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, অর্থনীতিতে প্রকৃত গতি না ফিরলে ব্যাংকঋণের চাহিদাও বাড়বে না। নতুন শিল্প স্থাপন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সরকারকে অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কার ও সুনির্দিষ্ট নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

ঠাকুরগাঁও-বগুড়া: ফুলকপিতে উঠছে না শ্রমিকের খরচ, মুলা ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা

অর্থনীতি ডেস্ক: বাজারে শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ লক্ষ্য করা গেলেও সেই তুলনায় ক্রেতাদের চাহিদা বাড়েনি। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img