অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে অর্থাৎ জান থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা একটি ইতিবাচক দিক। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ৯ মাসে চীনের মোট জিডিপির আর্থিক পরিমাণ ১০৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে গেছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চীনের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো এর শিল্প খাত। অর্থনীতির প্রধান নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত ‘শিল্প মূল্য সংযোজন উৎপাদন’ কেবল সেপ্টেম্বরেই ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদনের এই গতিশীলতা বজায় থাকায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থিতি বজায় রয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার কারণে উৎপাদন খাতের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে কর্মসংস্থান এবং শ্রমবাজারের পরিস্থিতিও সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশটির শহরগুলোতে গড় বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের হারের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সময়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ১৯ কোটি ২৭ লাখে পৌঁছেছে, যা বিগত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, শ্রমবাজারে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
দীর্ঘদিন ধরে মন্দাভাব চলতে থাকা চীনের আবাসন খাতেও এখন স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দেশটির প্রধান শহরগুলোতে বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে দাম হ্রাসের প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে, বিশেষ করে পুরোনো বাড়ির দাম পড়ার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এর আগে আগস্ট মাসে বাড়ি দাম কমার হার যেখানে ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ, সেটি সেপ্টেম্বরে আরও কমে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। আবাসন বাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।




