সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেও বিপদ, রাখলেও বিপদ—নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পড়ল মোদি সরকার

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে এই বিক্ষোভ ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে। আন্দোলন দমনে সরকার ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা, ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা এবং বিরোধী নেতাকর্মীসহ শত শত বিক্ষোভকারীকে আটকের মতো কড়া পদক্ষেপ নেয়। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তীতে এসব আটককে অবৈধ ঘোষণা করলেও সরকারি এই দমনপীড়ন নীতি ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এই রাজনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে সম্প্রতি একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর, যেখানে উঠে আসে যে নির্বাচন কমিশনের ভেতর থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর আপত্তি তোলা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই আপত্তি উপেক্ষা করে তালিকা হালনাগাদের নামে নির্বিচারে ভোটার বাদ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যায়। বিরোধীদের অভিযোগ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটারদের সুপরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।

তীব্র সমালোচনার মুখেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে রাজি নয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, সিইসির পদত্যাগ মানেই বিরোধীদের তোলা ভোট চুরির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের দায় স্বীকার করে নেওয়া, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অপ্রতিরোধ্য ও শক্তিশালী রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা হবে। পাশাপাশি, জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিলে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না, সেই অনিশ্চয়তাও ক্ষমতাসীনদের ভাবাচ্ছে। ফলে এক কঠিন রাজনৈতিক ফাঁদে পড়ে সরকার একচুলও ছাড় দিতে নারাজ।

কংগ্রেসসহ ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলো এবং তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে এই আন্দোলন এখন কেবল রাজধানী ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী বছর দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে জনবহুল উত্তর প্রদেশও রয়েছে। ফলস্বরূপ, নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এই আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং চলমান সংকট দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে অর্থসংকটে পড়ছে কি ইরানের সামরিক বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরানের সামরিক বাহিনীর তহবিল দ্রুত ফুরিয়ে...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img