জাতীয় ডেস্ক: বগুড়া জেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। জেলার তেরটি উপজেলার মধ্যে ইতোমধ্যে মাত্র দুটি উপজেলার তালিকা প্রকাশ করা হলেও বাকি এগারো উপজেলার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডিলারশিপ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা ও হতাশা বিরাজ করছে। সাধারণ কৃষকদের মাঝে সার সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় ও সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে এই ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত তালিকা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতার মধ্যে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকার আগ্রহী প্রার্থীরা হদিস না পেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও সঠিক তথ্য জানতে পারছেন না।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একজন করে সার ডিলার নিয়োগের জন্য গত কিছুদিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ পুরো জেলায় সর্বমোট এক হাজার ২৬৬ জন ব্যক্তি ডিলারশিপের জন্য আবেদনপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে দুই হাজার টাকা অফেরতযোগ্য ফি এবং দশ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত জমা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম ধাপেই আট শতাধিক আবেদনকারীকে বাদ দেওয়া হয়। তবে কী কারণে তাদের আবেদন বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে অনেক প্রার্থীই কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে পূর্বনির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী বাছাই করা হয়েছে বলেও প্রার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে গত কিছুদিন আগে কেবল শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এর বাইরে বাকি এগারো উপজেলার প্রায় একান্নটি ইউনিয়নের তালিকা প্রকাশের কাজ এখনো আটকে রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও অসন্তোষের সৃষ্টি হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূলত অধিকতর যাচাই-বাছাই এবং বিশদ তদন্ত সম্পন্ন করার পরেই বাকি উপজেলাগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবিত তালিকা আগেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেখান থেকে সবুজ সংকেত মিলতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
ডিলার নিয়োগের এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন ও আবেদনকারীদের মাঝে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেক প্রার্থী কাঙ্ক্ষিত পদের জন্য প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও কৃষি উপপরিচালক জানিয়েছেন যে, উপজেলা থেকে পাঠানো প্রস্তাবিত তালিকা যাচাই করে আগেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং এখন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন। চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আবেদনকারীদের অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সরকারের পক্ষ থেকে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বিলম্ব করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




