সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


ভ্রমণের জন্য চাকরি ছেড়ে অনুতপ্ত তরুণীকে কিছু পরামর্শ

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

ভ্রমণ ডেস্ক: দৈনন্দিন কর্মজীবনের ক্লান্তি এবং একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এক তরুণী। অর্থ খাতের একটি প্রতিষ্ঠানে টানা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করার পর তিনি চাকরি ছাড়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘমেতি এই অবসাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং কোনো বড় পারিবারিক দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বিশ্বকে দেখার তাগিদ কাজ করেছিল তাঁর মধ্যে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি একা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখার উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ছয় মাসের ছুটি বা বিরতি নেন। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই স্বপ্নের ভ্রমণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তাঁর মনে তীব্র অনুশোচনা শুরু হয় এবং তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হন।

ভ্রমণের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা তাঁর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে একেবারেই মিল খায়নি। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় পৌঁছানোর পর সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের আচরণ তাঁর কাছে অত্যন্ত শীতল এবং দূরত্ব বজায় রাখা স্বভাবের বলে মনে হয়। নিজের দেশের মানুষের সহজ ও উষ্ণ বন্ধুভাবাপন্ন আচরণের সঙ্গে এই সংস্কৃতির বিস্তর ফারাক তাঁকে প্রথম থেকেই হতাশ করে তোলে। এরপর তিনি ইতালির রোম শহরে পা রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিজের দেশের প্রধান শহরগুলোর তুলনায় রোমের পরিবেশ তাঁর কাছে অপেক্ষাকৃত অনিরাপদ এবং নোংরা বলে মনে হয়, যা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অচেনা ভুবনে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন নিজের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চমৎকার আবহাওয়া এবং নিরাপদ জীবনযাত্রার আসল মূল্য কতখানি। আগে কর্মজীবনের তীব্র ব্যস্ততার কারণে নিজের দেশের এই সাধারণ স্বাচ্ছন্দ্যগুলোর কথা তাঁর সেভাবে চিন্তার মধ্যেও আসেনি। বিদেশ বিভুঁইয়ে একা ঘুরে বেড়ানোর সময় নিজের দেশ, চেনা মানুষ এবং আরামদায়ক জীবনের জন্য তীব্র টান অনুভব করতে শুরু করেন তিনি। তাঁর এই মানসিক অবস্থার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশ করার পর তা দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

তবে ওই তরুণীর এমন হতাশাজনক পোস্টের পর সাধারণ বসে থাকেননি সামাজিক মাধ্যমের অন্যান্য অভিজ্ঞ ভ্রমণপিপাসুরা। অনেকেই তাঁকে এই মুহূর্তে মাঝপথ থেকে বাড়ি ফিরে না যাওয়ার জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভিন্ন কোনো সংস্কৃতি বা সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। একা বিদেশ যাত্রার একেবারে শুরুতে এমন মানসিক অস্বস্তি, নিঃসঙ্গতা ও হতাশা গ্রাস করা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তাই ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য তাকে অনুরোধ করেছেন অনেকে।

অন্যান্য ব্যবহারকারীরা নিজেদের দীর্ঘ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ভাগ করে জানিয়েছেন যে, এই ধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত মানুষের মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কম বয়সে একা বিশ্বভ্রমণের সময়কার কঠিন স্মৃতিগুলোই পরবর্তীতে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে ওঠে। অচেনা পৃথিবীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই কঠিন যাত্রাই অনেক সময় মানুষকে নিজের ঘরবাড়ি ও পরিচিত পরিমণ্ডলের আসল অর্থ বুঝতে শেখায়। তাই ভ্রমণের গতি কমিয়ে এবং মানসিক প্রস্তুতি আরও বাস্তবসম্মত রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছেন অভিজ্ঞ পর্যটকরা।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালকের

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img