সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


শুভ নাকি অশুভ শক্তি

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং এর দ্রুত ফুরিয়ে আসা মজুত মানবজাতির সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো অনবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে কোটি কোটি বছর সময় লাগলেও মানবসমাজ তা অত্যন্ত দ্রুত খরচ করে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞানীরা পারমাণবিক বিজ্ঞানকে একটি অন্যতম সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখছেন। পারমাণবিক শক্তি মূলত পরমাণুর কেন্দ্রে অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত হয়, যা প্রচলিত জ্বালানির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার পথ দেখাতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ যেমন রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, চীন ও জাপান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক শক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছে। এই প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিউক্লিয়ার ফিশন বা পরমাণু বিভাজন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যেখানে ইউরেনিয়াম-২৩৫ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রিঅ্যাক্টরের ভেতরে শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে উৎপন্ন প্রচণ্ড তাপ দিয়ে পানি ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় এবং আধুনিক নিয়ন্ত্রণ দণ্ডের মাধ্যমে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গড়ে ওঠা এই মেগা প্রকল্পের আওতায় দুটি রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে মোট দুই হাজার চারশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির মতো এটি পরিবেশের ক্ষতি করে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন করে না এবং অল্প পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা রাখে।

তবে বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার মারাত্মক কিছু ঝুঁকিও বহন করে, যার মধ্যে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা অন্যতম। যন্ত্রের ত্রুটি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবীয় ভুলের কারণে পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটলে তার সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এই ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করার জন্য বর্তমানে বিজ্ঞানীরা নিউক্লিয়ার ফিউশনের মতো আরও নিরাপদ প্রযুক্তির গবেষণ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সূর্যের শক্তির উত্সের মতো কাজ করে। শেষ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই পারমাণবিক শক্তিকে অভিশাপের বদলে মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের উপযোগী রাখা সম্ভব।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

বিগ ব্যাশে দল পেলেন মোস্তাফিজ

খেলা ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে নিয়মিত মুখ হলেও অস্ট্রেলিয়ার জমজমাট বিগ ব্যাশ লিগে খেলার সুযোগ মেলেনি এত...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img