রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান সরকার আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ফিরে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারের উচিত ছিল গণভোটের রায়কে শ্রদ্ধা জানানো এবং তা বাস্তবায়ন করা। কিন্তু বাস্তবে সেই রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নিয়ম অনুযায়ী তা উত্থাপিত হয়েছিল। তবে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি এবং ফ্যাসিবাদকে রুখে দিতে সক্ষম এমন প্রায় কুড়িটি অধ্যাদেশ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনেও নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, যা দুর্নীতি দমনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে উপহাসের শামিল বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সরকারি কর্মকমিশন বা পিএসসি প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মেধার ভিত্তিতে চাকরি ও ন্যায্য অধিকারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে লড়াই করেছিল। অথচ বর্তমান সময়ে পিএসসির চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়েছে এবং অন্য সদস্যদেরও চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব বিলুপ্ত করার বিষয়ে দেশবাসীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেরও দাবি ছিল। কিন্তু সরকার বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে কেবল নাম পরিবর্তন করে নতুন কাঠামো দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
পরিশেষে শফিকুর রহমান সরকারের ভুল শুধরে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও মাতারবাড়ী প্রকল্পের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। একই অনুষ্ঠানে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন যে সাতই নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ কেবল কোনো সামরিক বিষয় ছিল না, বরং তা ছিল একদলীয় শাসন ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে জনগণের ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।




