সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


৩৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, ইউএনও বলছেন ২৪—বাকি ৯ বস্তা কোথায়

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় দুস্থ ও জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এই চালের পরিমাণ নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন বিকেলে কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুটি অটোরিকশায় করে চালগুলো গোপনে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার তৎপরতায় রানীরহাট রাস্তার মাথা এলাকায় অটোরিকশা দুটিসহ চালগুলো আটক করা হয়। অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা এই খাদ্যপণ্য এভাবে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক করার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপি নেতা কাজল ও রবিউল দাবি করেছিলেন যে ওই অটোরিকশা দুটিতে মোট ৩৩ বস্তা সরকারি চাল ছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমকে ফোনে জানানো হয় এবং তার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালগুলো জব্দ করে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে নিরাপদ হেফাজতে সংরক্ষণ করা হয়। তবে চাল জব্দের প্রাথমিক দাবির সঙ্গে পরবর্তীতে হিসাবের গরমিল পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ধূম্রজাল তৈরি হয়।

এদিকে চালের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে শুরু হওয়া রহস্যের জট এখনো পুরোপুরি খোলা সম্ভব হয়নি। ৩৩ বস্তা চাল জব্দের দাবি করা হলেও পরবর্তীতে বিএনপির ওই দুই নেতার পক্ষ থেকে জানানো হয় সেখানে মূলত ২৪ বস্তা চাল ছিল। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন তার কার্যালয়ে ২৪ বস্তা সরকারি চাল পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করেছেন। চালের এই পরিমাণের অসংগতি এবং বাকি ৯ বস্তা চালের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে প্রশাসন জানিয়েছে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া এই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না এবং দুপুরের দিকে বাড়িতে যাওয়ার পর ফোনে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্যে ঘটনার নেপথ্য রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরকারি চাল বিতরণের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কীভাবে তা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাইরে নেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল নিয়ে এই ধরনের অনিয়মের ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জব্দ করার পর থেকে উপজেলা কার্যালয়ে চাল পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে বাকি ৯ বস্তার সঠিক হিসাব উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাল কোথা থেকে, কার বা কাদের নির্দেশে এবং ঠিক কোথায় পাচার করা হচ্ছিল—তা উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতে চলমান সংকট নিরসনে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও রাজধানী ঢাকা...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img