আইন-আদালত ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের আড়ালে বিশাল অংকের অর্থ পাচার ও আত্মসাতের দায়ে অ্যাপল গ্লোবালটেল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে দীর্ঘমেদায়ী কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সম্প্রতি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মজুমদার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিউর রহমান খান। মামলার রায়ে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের দুইজনকে মোট ২২ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি আর্থিক জরিমানা করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ বিদেশে পাচার করে আসছিলেন।
আদালতের রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই দুই কর্মকর্তাকে ১২ বছর করে এবং অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্রত্যেককে আরও ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি আলাদা ধারার সাজা একযোগে কার্যকর হবে বিধায় তাদের মূল ১২ বছর কারাবাস করতে হবে। এছাড়া অর্থ পাচারের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ৪৬৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থের দ্বিগুণ অর্থাৎ ৯২৬ কোটি টাকার বেশি জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। পাশাপাশি, অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্রত্যেককে আলাদাভাবে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দুদকের পিপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেছেন। তবে মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের গ্রেফতারে বা আত্মসমর্পণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন করে সংঘটিত এই অপরাধের সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে। আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের মাধ্যমে সেবা রপ্তানির নামে প্রায় ৪৬৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচার চলাকালীন আদালত পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে এবং বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।




