শিক্ষা ডেস্ক: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শুরু হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। গত দুই জুলাই শুরু হওয়া এই পরীক্ষা আট আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় নয় সেপ্টেম্বর। সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে নয় হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর যৌথ ওয়েবসাইট এবং নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে মার্কশিটসহ ফলাফল দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারছেন। এ ছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বর থেকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়েও খুব সহজে ফল জেনে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো কেন্দ্র বা দপ্তর থেকে সরাসরি ফলাফল বা শিট বিতরণ করা হচ্ছে না, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে তাদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী এক নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে সাত নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন গ্রহণ করা হবে। এসংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়মাবলি এবং ফি পরিশোধের পদ্ধতি ইতিমধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফল পরিবর্তিত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




