সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


গঙ্গাচড়ায় ভুয়া পূজামণ্ডপ দেখিয়ে জিআর চাল উত্তোলন

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

জাতীয় ডেস্ক: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে কোনো ধরনের পূজা অনুষ্ঠিত না হলেও ভুয়া মণ্ডপ দেখিয়ে সরকারি সাধারণ ত্রাণ বা জিআর চাল বরাদ্দ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসনের একটি বরাদ্দ তালিকা সামনে আসার পর এই অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাগজে-কলমে একাধিক মণ্ডপে পূজার অস্তিত্ব দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো উৎসব হয়নি। অথচ ওই মণ্ডপগুলোর বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা হয়েছে এবং তা গোপনে বিক্রি করে দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত গত অক্টোবরের একটি সরকারি বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, বেতগাড়ী ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিকে ৬০০ কেজি করে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল দেওয়া হয়। এই তালিকার মধ্যে পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির এবং পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত মন্দিরগুলোর স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সভাপতিদের দাবি, তাদের মন্দিরে কোনো পূজা উদ্‌যাপন করা হয়নি এবং তারা সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। পুটিমারী মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায় জানান যে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তার কোনো স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি, যা অন্য কেউ জালিয়াতি করে করেছে।

অন্যদিকে, পশ্চিম খাপড়িখাল মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে তাদের এলাকায় বিগত কয়েক বছর ধরে কোনো পূজার আয়োজন করা হয় না, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অথচ কাদের যোগসাজশে এই ভুয়া বরাদ্দ দেখানো হলো এবং চাল উত্তোলন করা হলো, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জিআর চাল বিতরণের মূল দায়িত্ব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওপর ন্যস্ত থাকে। ফলে পূজা না হওয়া সত্ত্বেও কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এই চাল ছাড় করা হলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এই অনিয়মের বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এমনকি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় অনিয়মের কথা একরকম স্বীকার করে দাবি করেছেন যে এটি একটি ভুল হয়েছে এবং তারা চালগুলো ফেরত দেবেন। তবে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টার পর এমন বক্তব্য সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন যে বিষয়টি জানার পরই তারা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে পূজা উদ্‌যাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে এবং পুরো বরাদ্দ প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

জেলেনস্কির সাথে বিরোধ, রাশিয়ার ওপর কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img