সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক সম্ভাবনাময় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাংলাদেশে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু এক ভয়ংকর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দেয় এবং এর প্রাদুর্ভাবে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। উন্নত বিশ্বের প্রধান সমস্যা না হওয়ায় বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এই রোগের কার্যকর ওষুধ বা টিকা আবিষ্কারে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে চায় না। ফলে ডেঙ্গুর মতো জাতীয় মারাত্মক সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের হাতে ছিল না। কেবল সচেতনতা বৃদ্ধি কিংবা মশা নিধন করে এই মহামারির স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ভিন্ন সেরোটাইপ থাকায় এবং একেক সময়ে একেকটির প্রকোপ বেশি হওয়ায় এর কার্যকর টিকা তৈরি করা অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ। সম্প্রতি বাজারে আসা কিউডেঙ্গা নামক টিকাটি সব সেরোটাইপের জন্য সমানভাবে ফলপ্রসূ নয়, যা দেশের গবেষণায়ও উঠে এসেছে। আইসিডিডিআরবি ও আইইডিসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ডিইএনভি-২ ও ডিইএনভি-৩ সেরোটাইপের আক্রমণ বেশি দেখা গেছে। এ কারণে কেবল টিকাকরণের ওপর নির্ভর না করে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় একটি কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন তীব্র হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে বেলজিয়ামের কেইউ লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবিত ‘মোসনোডেনভির’ নামের একটি ছোট অণুর অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন প্রাথমিক কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানোর পর বাণিজ্যিক কারণে এর পরবর্তী ধাপগুলো স্থগিত করে দিলেও বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি একটি প্যান-সেরোটাইপ অ্যান্টিভাইরাল অর্থাৎ ডেঙ্গুর যেকোনো সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এছাড়া প্রথম ধাপের ট্রায়ালগুলোতে ওষুধটির বড় ধরনের কোনো বিষাক্ততা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।

ওষুধটির উদ্ভাবক অধ্যাপক ইয়োহান নেইটসের সঙ্গে আলোচনার পর প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মোসনোডেনভির ডেঙ্গু চিকিৎসায় বড় আশীর্বাদ হতে পারে। বাংলাদেশ যদি এই ওষুধটির ফেস-টু-বি বা থেরাপিউটিক ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তবে আইসিডিডিআরবির মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এটি বড় অর্জন হতে পারে। দেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জরুরি অনুমোদন দিলে এবং জাতীয় কোনো জোট বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিলে এটি বাজারজাত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো নতুন ওষুধের ট্রায়াল ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে, যা জাতীয় সংকট মোকাবেলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

দশমীতে লাল রঙের পোশাক পরবেন? কীভাবে সাজবেন জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বিজয়া দশমীর সকাল মানেই এক অন্যরকম ব্যস্ততা ও মন খারাপের মিশ্রণ, যেখানে মনভরে সাজগোজ করার ইচ্ছা থাকে...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img