আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা ও শিক্ষক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে জনজীবন ও অর্থনীতির নানা সংকটের কারণে আরও তীব্র রূপ নেয়। আন্দোলন চলাকালীন বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো সহিংস ঘটনা ঘটে। এর ফলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে, যা মোকাবিলায় নড়েচড়ে বসেছে দুই দেশের সরকার।
বিক্ষোভের সূচনা মূলত বিদ্যালয়গুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও সরকারি বাজেটে ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাব থেকে হলেও দ্রুতই এর পরিধি বৃদ্ধি পায়। প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা প্রথমে ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ শুরু করলেও পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও কর্মজীবীরা। একই চিত্র দেখা যায় ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়ার মতো শহরগুলোতেও। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অনেক ক্ষেত্রে সহিংস রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এই সহিংসতার লাগাম টানতে সম্প্রতি ইতালির জর্জিয়া মেলোনি সরকার কিছু কঠোর পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণদের ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের অভিভাবকদের সরাসরি আর্থিক দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হয়েছে। রাষ্ট্র এখন চাইলে অভিভাবকদের সম্পত্তি বাজোপ্ত করা, বেতন বা সরকারি ভর্তুকি থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার মাধ্যমে ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে। এছাড়া বিক্ষোভে জননিরাপত্তা বিপন্নকারীদের জন্য দীর্ঘ কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
ফ্রান্সের বিদ্যমান দেওয়ানি আইনেও মা-বাবার যৌথ দায়বদ্ধতার বিধান রয়েছে, যার মাধ্যমে সন্তানদের করা ক্ষয়ক্ষতির জরিমানা অভিভাবকদের পরিশোধ করতে হয়। সম্প্রতি ফরাসি সরকার এই নিয়ম আরও কঠোর করতে একটি নতুন খসড়া আইন নিয়ে কাজ করছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। এই আইন পাস হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য মা-বাবাকে আরও কড়া আর্থিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, অভিভাবকদের এই বাড়তি আর্থিক দায়বদ্ধতার কারণে তরুণ প্রজন্ম সহিংস ও ধ্বংসাত্মক বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকবে।




