সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি: হোয়াইট হাউস

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওলেশকি শহরে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শহরটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসার পর ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই ওলেশকি শহরে এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনী কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে। এই বৃহত্তর কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতির এই বড় ঘোষণাটি এল। বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের এই নীতির ফলে একদিকে যেমন ইউক্রেনের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে রাশিয়াকেও কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প বর্তমান ওলেশকি শহরের পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওলেশকি একটি সম্মুখযুদ্ধের শহর যা বর্তমানে সম্পূর্ণ ধ্বংসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। শহরটির সাধারণ মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং অত্যন্ত সীমিত পরিমাণে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এখানকার বাসিন্দারা মাইনে ভরা বিপজ্জনক সড়কের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং নিয়মিত সামরিক হামলার শিকার হচ্ছেন। মেলানিয়া ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একদম স্পষ্ট ছিল যে তাঁর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হতো। পাশাপাশি অবরুদ্ধ শহরটি থেকে প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াও কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি আরও জানান যে, তাঁর প্রতিনিধি দল স্থানীয় পর্যায়ে এই যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো নির্ধারণ করার জন্য সরাসরি রাশিয়া ও ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এই সমঝোতার ফলে অবরুদ্ধ শহরের সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে দুই দেশের বেসামরিক নেতারা এখন একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ওলেশকি শহরের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় চব্বিশ হাজার। যুদ্ধক্ষেত্রের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এই শহরটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক আক্রমণ শুরুর প্রথম দিনেই দখল করে নেয়। এর পর থেকেই শহরটি চরম গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে রয়েছে এবং এখানকার সাধারণ মানুষ মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

তেহরান-মস্কোর কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img