সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


যুক্তরাষ্ট্রের মাদার অব অল বম্বসের জবাবে ফাদার অব অল বম্বস আনছে ইরান

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ও অত্যন্ত শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’-এর পাল্টা জবাব দিতে নতুন একটি অস্ত্র তৈরির কাজ শেষ করেছে ইরান। দেশটির অভিজাত বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই নতুন সমরাস্ত্র উন্মোচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাবের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানিয়েছেন যে এই নতুন অস্ত্রটি শত্রু দেশের জন্য সম্পূর্ণ অভিনব ও অপ্রত্যাশিত এক কৌশলগত ধাক্কা হবে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে সামরিক কর্মকর্তারা এই অস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ওজন, ধ্বংসক্ষমতা কিংবা বিস্ফোরক দ্রব্যের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

এর আগে মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর জিবিইউ-৪৩/বি সিরিজের এই বিশালাকার বোমা ব্যবহারের সম্ভাব্য হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। প্রায় ১০ টন ওজনের এই প্রচলিত বোমাটিকে মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক এবং শক্তিশালী নন-নিউক্লিয়ার অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে আফগানিস্তানের দুর্গম এলাকায় আইএস জঙ্গিদের গোপন সুড়ঙ্গ ধ্বংস করতে প্রথমবারের মতো এই বোমাটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। মার্কিন পক্ষের এই ধরনের সামরিক হুমকির ধারাবাহিকতায় তেহরানও তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

প্রতিরক্ষা খাতের অগ্রগতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র দাবি করেছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের আয়তন ও গুণগত মান উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত নানা উত্তেজনার পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। শুধু সংখ্যায় নয়, বরং এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার নিখুঁত ক্ষমতা, ধ্বংসক্ষমতা এবং দীর্ঘ পাল্লা আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তেহরান এখন তাদের পুরনো প্রতিরক্ষা কৌশল থেকে সরে এসে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে চাইছে যা যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্থায়ী এবং অভেদ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ইরানি সামরিক নীতিতে বড় ধরনের একটি মতাদর্শগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে হোসেইন মোহেবি জানান যে তাদের কৌশল এখন কেবল আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অতীতে তেহরানের নীতি ছিল কেউ আক্রমণ করলে কেবল তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া, কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা আক্রমণকারীকে সরাসরি পাল্টা আঘাত হানার নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে হুশিয়ার করা হয়েছে। মূলত প্রচলিত যুদ্ধের ধারণার বাইরে গিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ভিন্নধর্মী ও কার্যকর কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই তেহরান তাদের সামরিক নীতি সাজাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

ভারতে চলমান আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত সফরকালে দেশটির নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img