সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


রাতে ‘গুজব’, সকালে ‘পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’, দুপুরে ‘স্বেচ্ছায় অব্যাহতি’: ইশরাকের যত বক্তব্য

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

রাজনীতি ডেস্ক: অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের জেরে সমালোচনার মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমে সেটিকে সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এই বিএনপি নেতা। এমনকি তাঁর দপ্তর থেকে সংবাদমাধ্যমকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। অথচ তার ঠিক পরদিন সকালেই সুর পাল্টে তিনি নিজেই পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন এবং দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন যে, তিনি কোনো নির্দেশ বা চাপে নয়, বরং নিজেই স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তিনি জানান, ঢাকা-৬ আসনসহ স্থানীয় পর্যায়ে মাদক নির্মূল এবং জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করতে চান বিধায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আগের রাতের বক্তব্য এবং দুপুরের এই ব্যাখ্যার মধ্যে স্পষ্ট অমিল ও পরস্পরবিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্বীকার করেন যে প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেটের প্রধান হিসেবে নির্দেশ দেবেন এটাই স্বাভাবিক, যা তাঁর আগের রাতের দাবির ঠিক উল্টো ছিল।

পদত্যাগের খবর অস্বীকার করার পক্ষে নতুন এক যুক্তি দাঁড় করিয়ে ইশরাক দাবি করেন যে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত যেকোনো অপ্রকাশিত সিদ্ধান্তকে গুজব বা অসত্য হিসেবে ধরেই নিতে হবে। তাঁর মতে, মূলত নির্ধারিত সময়ের আগেই দলের কোনো সহকর্মী বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ আগের রাতে শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকার কথা বলা হয়নি, বরং পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার তথ্যটিকেই সর্বৈব মিথ্যা বলে দাবি করা হয়েছিল। মধ্যরাত পর্যন্ত নিজের পদ আঁকড়ে থাকার বার্তা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তনে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে এসে ইশরাক স্পষ্টভাবে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন এবং মাদকবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর অনেক অনুসারী তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর শত শত নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একটি গাড়িবহর নিয়ে তিনি হাইকোর্ট মোড় ও গুলিস্তান হয়ে গন্তব্যের দিকে রওনা হন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গুজব থেকে শুরু করে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির এই পুরো ঘটনাটিতে ইশরাকের বক্তব্যের অসঙ্গতি এবং নানা নাটকীয়তা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

‘এমপি হলে প্রথম কাজ খোলাবাজারে সার বিক্রি’

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img