সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


শিল্পবন্দরের চাপে সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক বিপর্যস্ত

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

জাতীয় ডেস্ক: শিল্পায়ন এবং বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনের অস্বাভাবিক চাপের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশটি দিন দিন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, স্থানীয় বিভিন্ন কারখানা এবং চট্টগ্রাম বন্দরমুখী ভারী যানবাহনের নিয়মিত চলাচলের ফলে এই সড়কে যানবহনের সংখ্যা অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মহাসড়কটির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে এবং সামান্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিংবা একটিমাত্র গাড়ি বিকল হলে পুরো এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এই স্থবিরতার কারণে জরুরি পরিসেবার গাড়ি ও সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনগুলোও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

এই মহাসড়কের ওপর থেকে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ কমাতে এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজ করতে উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে একটি বিকল্প মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত সড়কটির প্রাথমিক সমীক্ষা তথা ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং নকশা তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মিরসরাই থেকে শুরু হয়ে সীতাকুণ্ডের উপকূল ঘেঁষে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও মাতারবাড়ী হয়ে পর্যটননগরী কক্সবাজার পর্যন্ত এই সংযোগ সড়কটি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ করিডর গড়ে তোলাই এই মেগা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন কেবল সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত বা সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে, যা পাওয়া গেলে এর প্রশাসনিক ও নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড অঞ্চলের ভারী শিল্পের কাঁচামাল এবং উৎপাদিত পণ্য আনা নেওয়ার জন্য এই মহাসড়কটিই একমাত্র প্রধান ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাথে চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় এই রুটের গুরুত্ব ও চাপ দুটোই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি বিকল্প রুট এখন সময়ের জোরালো দাবি হয়ে উঠেছে কারণ সমুদ্র উপকূলীয় এই অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের গতি কোনোভাবেই থেমে নেই। তবে এর বিপরীতে উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিজাইন সম্পন্ন হওয়ার পরেও কেবল প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সড়কটি চালু হলে পণ্যবাহী গাড়ির একটি বড় অংশ বিকল্প এই পথ ব্যবহার করার সুযোগ পাবে, যা প্রধান মহাসড়কের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গতিশীল করবে।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

বিগ ব্যাশে দল পেলেন মোস্তাফিজ

খেলা ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে নিয়মিত মুখ হলেও অস্ট্রেলিয়ার জমজমাট বিগ ব্যাশ লিগে খেলার সুযোগ মেলেনি এত...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img