সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ


সৌদি আরব-ইসরায়েলের চাপেই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সৌদি আরব ও ইসরায়েল-এর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চাপের মুখেই যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরান-এর নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি স্বীকার করা হয়নি, তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ইসরায়েল। তেল আবিবের দাবি, ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, যা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। একই সঙ্গে ইয়েমেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সৌদি আরবের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে ‘কঠোর অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানায়। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় রিয়াদ ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের অভিযোগ, এসব হামলার পেছনে ইরানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে একটি সামরিক অভিযান চালায় বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হামলাটি ছিল ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক’ এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে সতর্কবার্তা দেওয়া। মার্কিন প্রশাসন বলছে, এটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার অংশ।

তবে তেহরান এই হামলাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এর ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে। দেশটির সামরিক বাহিনীও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, যদিও তা কী রূপ নেবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় আকারের সংঘাতে জড়াতে চায় না। কিন্তু তার আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় মাঝে মাঝে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ইস্যুতে ওয়াশিংটন ঐতিহাসিকভাবে দৃঢ় অবস্থানে থেকেছে। একইভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের কয়েকজন কূটনীতিক শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই উত্তেজনা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

এদিকে জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সৌদি আরব ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ, ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান—এই তিনের সমন্বয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক অস্থির অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে শান্ত করতে পারে কিনা, নাকি সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়বে।

post\IH

- বিজ্ঞাপন -spot_img

17 COMMENTS

spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

ভবঘুরের ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার সম্রাট, সাভারে সাত মাসে ৬ খুন: পুলিশ

অনেকটা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করলেও খুব ঠান্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জনকে খুন করেছেন...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img