শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রখ্যাত লালনগীতি শিল্পী ফরিদা পারভীন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুনে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা এবং প্রিয় শিল্পীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন।
হাসপাতালে গণমাধ্যমের সামনে কনকচাঁপা বলেন, ফরিদা পারভীন লালনগীতিকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা তুলনাহীন। আখড়ার সুর থেকে গান নিয়ে নিজের কণ্ঠে যে অনন্য উপস্থাপন করেছেন, তা ছিল একেবারে আলাদা। তার কণ্ঠের মায়া ও শক্তি হৃদয় স্পর্শ করত তীরের মতো।আমরা ভরাট এক সংগীতাঙ্গন দেখে বড় হয়েছি, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই বটবৃক্ষরা হারিয়ে যাচ্ছেন। আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়ছি।
সাধারণ মানুষের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে কনকচাঁপা বলেন, শিল্পীদের মৃত্যু নিয়ে অনেকে পাপ-পুণ্য বা দোজখ-বেহেশতের কথা বলেন। দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই ধরনের আলোচনা শুরু হয়, যা শিল্পীদের জন্য কষ্টকর। সাধারণ মানুষ যারা তাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, শিল্পীদের এত পাপী ভাববেন না আপনারা। দেশে আরও অনেক জায়গা আছে যেখানে পাপ আছে, আমরা শিল্পীরা শুধু গানই করে যাই।
অন্যদিকে, রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ ফরিদা পারভীনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয় জানাজা নামাজের জন্য। কুষ্টিয়ায় মা–বাবার কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার কথা রয়েছে।
আরপিকে/




