বিশ্বের এক অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর ৫০ বছর বয়সী এক নারী ফ্রান্সিন। তিনি জন্ম দিয়েছেন ৫৩টি সন্তানের, যে কারণে তাকে বিশ্বের সর্বাধিক সন্তানের জন্মদানকারী নারীদের একজন বলা হচ্ছে। বিরল একটি জেনেটিক অবস্থার কারণে তিনি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় গর্ভধারণ করেন এবং প্রতি গর্ভধারণে একাধিক সন্তানের জন্ম দেন।
ফ্রান্সিনের পরিবার গড়ে উঠেছে এক বিশাল সম্প্রদায়ের মতো। এই পরিবারে রয়েছে তার নিজ হাতে গড়া সংস্কৃতি, নিয়ম এবং প্রতিদিনের সংগ্রাম। একক মা হিসেবে এতগুলো সন্তানের দেখভাল করা সহজ কাজ নয়। তবে ফ্রান্সিন কখনোই হার মানেননি। নিজের জীবনের সবটুকু উৎসর্গ করেছেন সন্তানদের জন্য। স্থানীয় সমাজেও তিনি অনুপ্রেরণার প্রতীক।
ফ্রান্সিন জানান, “প্রতিটি সন্তানই ঈশ্বরের উপহার। আমি গর্বিত যে তারা আমার জীবনকে অর্থপূর্ণ করেছে।”
তার এই বিরল মা হওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার মা হয়ে। এরপর প্রায় প্রতি দুই বছরে একাধিক সন্তানের জন্ম দেন তিনি। বর্তমানে তার সবচেয়ে বড় সন্তান ৩৭ বছর বয়সী, আর সবচেয়ে ছোটটি মাত্র কয়েক মাসের।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রান্সিনের শরীরে থাকা ‘হাইপারওভুলেশন’ নামের এক জেনেটিক অবস্থা তাকে বারবার গর্ভধারণে সক্ষম করে তোলে। এই অবস্থা অত্যন্ত বিরল হলেও তার শরীর প্রাকৃতিকভাবে প্রতিবার একাধিক ডিম্বাণু তৈরি করে। তবে রেকর্ড গড়া এই মায়ের জীবন কেবল জৈবিক কাহিনি নয়, এটি একটি মানবিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সংগ্রামের গল্পও। তিনি সরকারি সহায়তা ছাড়াই নিজ সন্তানদের লালন-পালন করছেন। প্রতিবেশী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নিয়ে তিনি সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এই অসাধারণ মা। তার জীবন কাহিনী শুধু একটি রেকর্ড নয়, বরং এক গভীর প্রেরণার উৎস। তিনি প্রমাণ করেছেন যখন ইচ্ছাশক্তি ও মাতৃত্বের শক্তি একত্রিত হয়, তখন অসাধ্য কিছুই থাকে না।
আরপিকে/




