সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ


সাড়াজাগানো দুদক কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত নিয়ে ধোঁয়াশা

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে আলোচনায় আসা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দীনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত গত বুধবারের অফিস আদেশে তার চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৫৪ (২) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো: শরীফ উদ্দীন, উপসহকারী পরিচালক, দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যক্রম, পটুয়াখালীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। তিনি বিধি মোতাবেক ৯০ দিনের বেতন এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এ আদেশ ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
শরীফ উদ্দীনের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে দুদক সচিব মো: মাহবুব হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। চাকরি বিধি পরিপন্থী কাজ করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বার্থে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ দিকে সহকর্মীকে বরখাস্তের প্রতিবাদে দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল প্রধান কার্যালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে তারা শরীফ উদ্দীনের চাকরি ফিরিয়ে দিতে দুদক সচিব বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন। একইভাবে সারা দেশে ২১টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়।


দুদক সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় শরীফ উদ্দিন ২০২১ সালের ১৬ জুন হালনাগাদ ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালকসহ ইসির চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ওই বছরের ১৫ জুন রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ দেয়া ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সরফরাজ কাদের রাসেলসহ ছয়জন এবং ১২ জুন ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল বালিসহ ছয়জনের নামে মামলা দায়ের করেন তিনি।
১০ জুন দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়ায় সাবেক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলামের (বিএসসি) বড় ছেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো: মুজিবুর রহমান, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো: সারওয়ার হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক মো: মজিবুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সার্ভেয়ার মো: দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আলোচনায় আসেন শরীফ উদ্দিন। এ মামলায় মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো: সারওয়ার হোসেন, সাবেক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান ও সার্ভেয়ার মো: দিদারুল আলমকে গ্রেফতার করে দুদক। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
২০২১ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে-সংলগ্ন কলাতলী বাইপাস রোড এলাকায় পিবিআই অফিস তৈরির জন্য এক একর জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির ঘটনা উঠে আসে শরীফ উদ্দিনের তদন্তে।
কক্সবাজারের উন্নয়ন মহাপ্রকল্পগুলোর জমি অধিগ্রহণের দুর্নীতিতে জড়িত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি, যাদের পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে নামে চট্টগ্রাম দুদক। পরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। বেশ কয়েকটি মামলাও করেছিলেন শরীফ উদ্দিন।

দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন


রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে খালাসি পদে ১৯ জনকে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এক কোটি দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপকসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। একই মামলায় দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত খালাসি, ঠিকাদার, স্কুলশিক্ষক, পিয়ন, রেলের ড্রাইভারসহ আরো আটজনকে আসামি করা হয়।
গত বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে জড়িত থাকা একজন শীর্ষ দালাল ও সাবেক এক সার্ভেয়ারকে আটক করেছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে বেশ কিছু বড় দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো: শরীফ উদ্দিন। এরপরই একাধিক মহলের রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর গত বছরের ১৬ জুন দুদক পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মো: শরীফ উদ্দিনকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। সর্বশেষ গত ৩০ জানুয়ারি পরিবারসহ হত্যার হুমকি পান শরীফ উদ্দিন। হুমকি পাওয়ার পর কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আইয়ুুব খান চৌধুরী ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে সিসি টিভির ফুটেজসহ চট্টগ্রামের খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মো: মাহবুব হোসেন বলেন, শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনটি বিভাগীয় মামলা চলছে। আরো প্রায় ৭ থেকে ১০টি অভিযোগ তাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, উনি অনেক সুযোগ পেয়েছেন। ওনাকে অনেকবার ডাকাও হয়েছে। সবশেষ বিধিবদ্ধ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এটি একেবারে চরম পর্যায়ে চলে গেলে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়, সেটির একটি অংশ। তার বিরুদ্ধে অনেক কমপ্লেইন রয়েছে। বিভাগীয় মামলা চালু আছে। অনেকগুলো কমপ্লেইন আসছিল, অনেকগুলো এসেছে।
শরীফ দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিবিধি অব্যাহতভাবে লঙ্ঘন করেছেন এমন অভিযোগ এনে সচিব বলেন, যার কারণে দুদক মনে করেছে ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এবং সবাই যাতে সঠিকভাবে কাজ করেন সেই লক্ষ্যে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা প্রয়োজন। এটি শুধু কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়, এটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির বিষয়।
তবে কী কী বিষয়ে অভিযোগÑ সেটি প্রকাশ করতে চাননি দুদক সচিব। তিনি বলেন, উনি বিধি-বিধানের বাইরে অনেক কাজ করেছেন, যেটা আমি পাবলিকলি বলতে চাই না।
শরীফ দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম করায় কোনো চাপের বলি হলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যা ঘটেছে তার সাথে তদন্ত বা প্রসেস করা, এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
এ দিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক মো: শরীফ উদ্দিনকে অপসারণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন তার সহকর্মীরা। গতকাল দুপুর ১২টার পর দুদকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুদক সচিব মো: মাহবুব হোসেন বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে ৫৪ (২) ধারায় বিধি অনুযায়ী একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা ইনভেস্টিগেশন-ইনকোয়ারি করতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। কাজ করতে গিয়ে আমাদের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আশা করি আমাদের সম্মানিত কমিশন যৌক্তিকতা সহকারে আমাদের সমস্যাগুলো দেখবেন। আমরা যেসব সমস্যা ফেস করি এ বিষয়গুলো সচিব স্যারের কাছে জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, খুব দ্রুত আমাদের বিষয়গুলো সমাধান করবেন।
তিনি বলেন, একটি ক্রিমিনাল প্রসিডিউর বেইজড অন ইনভিজিলেশন অ্যান্ড ইনকোয়ারি চাইলেই তাড়াহুড়া করে দেয়া যাবে না। আমরা চাইছি এই জিনিসগুলো যেন তারা বুঝে সমাধান দেন। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধাসহ অন্যান্য অন্যায্য বিষয়গুলো ঘটে, আমাদের নিরাপত্তা দিক।
সচিবের কাছে পেশ করা স্মারকলিপিতে প্রধান বিষয় ছিলÑ অসাংবিধানিকভাবে ও আদালতে বিবেচনাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মচারী (চাকরি) বিধিমালা, ২০০৮ এর বিতর্কিত ৫৪ (২) ধারায় উপসহকারী পরিচালক মো: শরীফ উদ্দীনকে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ বাতিল করা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারী হিসেবে দুর্নীত দমন কমিশনের ভিশন-মিশন বাস্তবায়নের জন্য দুর্নীতিবাজ নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করি। যার নজির রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন ও তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার চলমান রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ৫৪(২) নং বিধিতে বলা হয়েছেÑ “এই বিধিমালায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ না দর্শাইয়া কোনো কর্মচারীকে নব্বই দিনের নোটিশ প্রদান করিয়া অথবা নব্বই দিনের বেতন পরিশোধ করিয়া তাহাকে চাকরি হইতে অপসারণ করিতে পারবে।”
অন্য দিকে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৫(২) নং অনুচ্ছেদে লেখা আছে “অনুরূপ পদে প্রজাতন্ত্রের অসামরিক পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে তাহার সম্পর্কে প্রস্তাবিত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দান না করা পর্যন্ত তাহাকে বরখাস্ত অপসারিত বা পদাবনমিত করা যাইবে না।”


দুর্নীতি দমন কমিশন চাকরি বিধিমালা ২০০৮ এর ৫৪ বিধির কার্যকারিতার বিষয়টি ওই আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দুদকে ২০১৪ সালে যোগদানকৃত একজন কর্মকর্তাকে কোনোরূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং সে কোনোরূপ অপরাধ করেছে কি না সে বিষয়টি তাকে অবহিত না করে ১৬-০২-২০২২ তারিখের স্মারক নং ৭৪৯০ মূলে ৫৪(২) বিধি প্রয়োগের মাধ্যমে উপসহকারী পরিচালক মো: শরীফ উদ্দীনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়, যা অসাংবিধানিক, বে-আইনি ও সাধারণ আইনের আওতায় মানবাধিকার পরিপন্থী ।
ধেঁাঁয়াশা দূর করার আহ্বান টিআইবি’র : এ দিকে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো: শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতি নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, গণমাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক মো: শরীফ উদ্দিনকে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংস্থার অভ্যন্তরে এবং বাইরে বেশ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এই চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দুদক কর্মীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধনের মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা যেমন অভূতপূর্ব, তেমনি উদ্বেগজনক।
একইসাথে, দুদকের চাকরিবিধি অনুযায়ী কোনো কর্মীকে অপসারণের এখতিয়ার দুদকের হাতে থাকতেই পারে; কিন্তু দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন দক্ষ ও সাহসী কর্মকর্তার সুরক্ষা নিশ্চিতের পরিবর্তে কেন এভাবে অপসারণের পথ বেছে নিতে হলো, তা দুদকের নিকট থেকে জানার অধিকার জনগণের রয়েছে বলে মনে করছে টিআইবি।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

শাকিবের সঙ্গে কীভাবে প্রেমের শুরু? জানালেন বুবলী

দেশীয় শোবিজের সবচেয়ে চর্চিত নাম এখন শাকিব খান ও বুবলী। অনেক দিন ধরে চলতে থাকা শাকিবের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনে...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img