সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

সত্য ও নির্ভরশীল সংবাদ প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


লক্ষ্মীপুরে শিশু সানিম হত্যার ঘটনায় শিক্ষক কারাগারে

- বিজ্ঞাপন -spot_img
সবচেয়ে জনপ্রিয়

লক্ষ্মীপুরে আল-মঈন ইসলামী একাডেমীতে হিফজ বিভাগের ছাত্র সানিম হোসাইনকে (৮) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় শিক্ষক হাফেজ মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, অধ্যক্ষ বশির আহমেদ ও ফয়সাল নামে তিনজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পরে আটককৃত মাহমুদকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার (১৪ মে) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় মাদ্রাসা থেকে নিহত সানিমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে দুপুরে সানিমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

নিহত সানিম রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের ব্যবসায়ী হুমায়ন কবির মাতব্বরের ছেলে। সে ২০ পারা কোরআনে হাফেজ ছিল। ঘটনার রাতেই সানিমের বাবা হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে সদর থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ জনের নামে মামলা করেন।

এদিকে পরিবারের অভিযোগ, ৩-৪ দিন আগে জানানো হয়, সানিম হুজুরের কথা শোনে না, এমনকি হুজুরের নামে বদনাম করে। এ নিয়ে হুজুর তার ওপর রেগে ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়, সানিম নাকি টয়লেটে ঢুকে গলায় ফাঁস দিয়েছে। মাদ্রাসায় এসে সেই হুজুরকে জিজ্ঞেস করতেই সবাই বলেছে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। সানিমের মরদেহ স্বজনেরা এসে টয়লেটে পায়নি। তার মরদেহ মাদ্রাসার নিচতলার একটি কক্ষে বিছানায় পাওয়া গেছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষকদের দাবি, সানিম মাদ্রাসা ভবনের তিন তলায় টয়লেটে ঢুকে আত্মহত্যা করেছে। পরে শিক্ষকেরা তার মরদেহ সেখান থেকে নিচতলায় নামিয়ে একটি কক্ষের বিছানায় রাখে। তবে এ ঘটনায় মাদ্রাসা কক্ষের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গামছা নিয়ে সানিমকে টয়লেটে ঢুকতে দেখা গেলেও বের হওয়ার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। সানিমের মরদেহ ৩য় তলার টয়লেট থেকে শিক্ষকেরা নিচতলায় নামিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে নামানোর ভিডিও দেখাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।

সানিমের বাবা হুমায়ুন কবির বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের বিচার চাই।

ঘটনার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বশির আহমেদ বলেন, ক্লাস শেষে সবাইকে নামাজ আর খাওয়ার বিরতি দেওয়া হয়। নামাজ পড়ে সবাই খেতে যায়। কিন্তু সানিম যায়নি। সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় সে গামছা নিয়ে টয়লেটের প্রবেশ করে। সেখান থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, সানিমকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা মামলা করেছেন। ঘটনার পর আটক শিক্ষক মাহমুদকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

- বিজ্ঞাপন -spot_img
spot_img
সর্বশেষ সংবাদ

সৌদি আরব-ইসরায়েলের চাপেই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সৌদি আরব ও ইসরায়েল-এর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চাপের মুখেই...
- বিজ্ঞাপন -spot_img
একই রকম পোস্ট
- বিজ্ঞাপন -spot_img