ইসরায়েলি বাহিনীর এক হামলার পর ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে ও টার্মিনাল এলাকায় বিস্ফোরণের পর একাধিক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বিমান আগুনে পুড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পরপরই প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো বিমানবন্দর এলাকা এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েল একটি বিমান হামলা চালায় সানার বিমানবন্দরে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হুথি মিলিশিয়াদের দ্বারা ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের সম্ভাব্য ঘাঁটি। তবে বেসামরিক অবকাঠামো এবং সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অন্তত দুটি বড় আকারের বিমান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং টার্মিনাল ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে।
হুথি সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই হামলা ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার মাধ্যমে ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধাপরাধ করছে।” তারা আরও দাবি করেছে, হামলায় অন্তত ৭ জন বিমানবন্দরের কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, হামলাটি ছিল একটি ‘প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর অস্ত্র পরিবহনের পথ বন্ধ করা।
এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের পাশাপাশি ইয়েমেন থেকেও হুথি গোষ্ঠী একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের দিকে। ইসরায়েলের দাবি, হুথি গোষ্ঠীর এসব আক্রমণ প্রতিহত করতে তারা বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে ইয়েমেনে টার্গেটেড স্ট্রাইকও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে। ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে বিদেশি হস্তক্ষেপ আগেও দেখা গেছে, তবে ইসরায়েলি হামলা এই প্রথমবার সরাসরি আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনো আগুন জ্বলছে এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কিছু ফ্লাইটের যাত্রীদের মালামালও পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। পুরো বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও এই হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, “বেসামরিক স্থাপনার ওপর এমন হামলা মানবিক সংকট আরও বাড়াবে এবং ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলবে।”
সানার সাধারণ মানুষদের মধ্যে এই হামলার পর ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই রাজধানী ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। শিশু ও নারীদের মধ্যে মানসিক চাপের লক্ষণ স্পষ্ট, বলছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হুথি প্রশাসন। একই সঙ্গে তারা প্রতিশোধমূলক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা আগামী দিনে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরপিকে/




